মোবাইল অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

৪ আগষ্ট, ২০২২ ১১:৩২  
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অর্থাৎ অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নাগরিকদের দৈনন্দিন কাজে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। ওই বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গুগল প্লে-স্টোরে এখন প্রায় ৩৫ লাখের ওপর মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৮০শতাংশ ম্যালওয়্যার তৈরির পিছনে অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন দায়ী। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আবার এ সকল ব্যবহারকারীর মধ্যে ৯৮% ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করে। আমাদের দেশে গুগল কেবলমাত্র ভ্যাট নিবন্ধন করেছে। তাদের কোনো কোন ডাটা সেন্টার বা কার্যালয় নেই। আমরা এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করা শিখছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ জানেন না কোন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটা ব্যবহার করা প্রয়োজন বা কোনটার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিবন্ধন করা বা পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাই এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যাপ্লিকেশন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। সকালে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়ার অ্যালার্ম থেকে শুরু করে মিউজিক প্লেয়ারে পছন্দের প্লে-লিস্টটি চালু করে জগিংয়ে যাওয়া, গাড়ির টিকিট কেনা, হোটেলের রুম কিংবা রেস্টুরেন্টের টেবিল বুকিং দেওয়া, গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য ডিজিটাল নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিক এবং সহজ পথটি বেছে নেওয়া, দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কগুলো অবিরত রাখাসহ অনেকভাবে জীবনকে সহজ করে দিচ্ছে এ প্রযুক্তি। আমরা চাইলেই কিছু শর্ত মেনে খুব সহজেই আপনার স্মার্টফোনটির মাধ্যমে নিরাপত্তার স্বার্থে আপনজনদের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতে পারি। দূর থেকেও চোখ রাখতে পারি, আমাদের বাড়ি, গাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর ওপর। অর্থাৎ জীবনকে সহজ, আনন্দময় করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থাপনা দিয়ে তৈরি হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশনগুলো। কিন্তু এ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সত্যিই কী নিরাপদ? আমাদের নিয়ন্ত্রণ কমিশন কতটুকুই বা সক্ষম প্রশ্নতুলে এটি নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালারও দাবি জানিয়েছেন বামুগ্রাএ সভাপতি। পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার সামাজিক অবক্ষয় রক্ষার্থে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।